
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী থেকে ধূলিয়া প্রধান সড়কের চাদকাঠী ব্রিজের নিচ থেকে ডনভ্যান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কার কাজে নেমেছেন বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌশিফুর রহমান রাফা। রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় ছাত্র, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানের গর্ত ভরাট ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, চাঁদপুর, ভোলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ চলাচল করেন। প্রায় এক দশক ধরে বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সড়ক সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে তৌশিফুর রহমান রাফা বলেন, “এই সড়কটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কষ্ট আমি নিজের চোখে দেখে আসছি। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ উদ্যোগে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থানীয় ছাত্র ও তরুণদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সড়কের গর্তগুলো ভরাটের কাজ শুরু করেছি। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার একটি মানবিক উদ্যোগ। সামর্থ্য অনুযায়ী পুরো সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
স্থানীয় বাসিন্দা আবির বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের কারণে আমরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। রাফা ভাই নিজের উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তিনি যেভাবে কাজ করছেন, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। আমরা তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং প্রশাসনের কাছে সড়কটির দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানাই।”
স্থানীয়দের মতে, তরুণদের এমন স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উদ্যোগ শুধু জনদুর্ভোগ কমাতেই সহায়ক নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবসেবার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়কটির দ্রুত স্থায়ী সংস্কার জরুরি বলে তারা মনে করেন।