
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সরকারি খাসজমি থেকে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধে আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশে আসিফ আইচ ফ্যাক্টরিসহ শতাধিক পরিবারের বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা আপাতত উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
জানা গেছে, রাঙ্গাবালীর চরমোমতাজ ইউনিয়নের দুইজ বাজার (মানতা পল্লী সংলগ্ন) এলাকার বাসিন্দা মো. ইছা, আব্দুর রশিদ ও মো. আবুল কাশেমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি ভূমি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে ‘সরকারি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০’ (অধ্যাদেশ নং—২৪/৭০) অনুযায়ী উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ভূমির দখল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় অধ্যাদেশের ৮ ধারার আওতায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়।
এরপর ক্ষতিগ্রস্তরা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত তাদের আবেদন গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, বিবাদীপক্ষ লিখিত আপত্তি দাখিল করবেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ০১ এসএ/২০২৬—২৭ নম্বর দরখাস্তের ওপর চূড়ান্ত আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি উচ্ছেদ কেস নং—০১ রাঙ্গা/২০২৫—২৬—এর কার্যক্রম, বিশেষ করে বাদীপক্ষকে তফসিলভুক্ত সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এ অন্তর্বর্তী আদেশের মাধ্যমে জমির স্বত্ব, দখল বা উচ্ছেদ কার্যক্রমের বৈধতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বরফকলের মালিক ও স্থানীয়দের দাবি, এসএ রেকর্ডে জমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও একটি ভূমিদস্যু চক্রের প্রভাবে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নাল জমিকে নদী হিসেবে দেখিয়ে বিএস জরিপ সম্পন্ন করেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে একই জমি বিএস রেকর্ডের ভিত্তিতে একাধিকবার লিজ দেওয়া হলেও প্রকৃত মালিকদের নামে রেকর্ড না করে নদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ কারণেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালত উচ্ছেদ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আদালতের এ আদেশে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আসিফ আইচ ফ্যাক্টরি আপাতত উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।