শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়: মির্জা ফখরুল

হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় এই সমাজকে আবার অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমাদের রাজনীতি সুন্দর—পরিচ্ছন্ন না। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি শুধু বলতে চাই, আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে সক্রিয়তা ও পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি—তা সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গণতন্ত্র ফিরে পাইনি।

তিনি বলেন, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল, আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল, তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতি বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকে এই অবস্থাতে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। আমরা কেউ চাই না, আর দেশে কোনো গোলযোগ হোক।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ—দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবন, কাজ ও কবিতার বাইরের ব্যাপার ছিল। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান—সব ক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি ‘গীতাঞ্জলি’ লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বমানবতার কবি। আমার প্রায়ই মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ—৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ—১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ—২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ—৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ—৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ—৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনভর ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost