বুধবার, ০৩ Jun ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
আবার সংবাদের শিরোনামে বরিশাল আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল তবে রোগীকে সুস্থ করে না বরং চিকিৎসা জনিত অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে।এর আগেও একাদিক অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলায় রুগীর মৃত্যু।গত অক্টোবর মাসে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভূগি পরিবার।
বরিশাল নগরীর আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলামের দিকে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা ও উন্নত হাসপাতালে রেফার না করায় তাদের নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগেও চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আলোচিত ছিল আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল। গত বছরের অক্টোবর মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। সেই অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটিকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।অনেকে ক্ষোভের সাথে বলেন আর কত প্রান গেলে ঘুম ভাঙ্গবে সংশ্লিষ্ট দফতর কর্মকর্তাদের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার মোরাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মুনা সর্দার ও তার স্বামী সাজ্জাদ ফরাজী বর্তমানে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা জোর মসজিদ এলাকার প্রথম গলিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ৩১ মে দুপুর ২টার দিকে অন্তঃসত্ত্বা মুনা সর্দারকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ডা. নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মা সুস্থ থাকায় রাত ৮টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে জন্মের পরপরই চিকিৎসক পরিবারকে জানান, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তাকে অক্সিজেন দিতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে নবজাতকের জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সিসিইউ বা আইসিইউ সুবিধা নেই। এছাড়া সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না। নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডা. নজরুল ইসলাম নিজে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে তার মনোনীত চিকিৎসক আসার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। পরে রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুর রহমান এসে নবজাতককে পরীক্ষা করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
সাজ্জাদ ফরাজীর দাবি, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও তাদের জানিয়েছেন, রোগীকে আরও আগে রেফার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
নবজাতকের বাবা সাজ্জাদ ফরাজী বলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য ডা. নজরুল ইসলাম দায়ী। তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেননি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এদিকে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ডা. নজরুল ইসলামের চেম্বারে রোগী দেখানোর পর তার নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করালে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়।
নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”