সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম, নাইট বিল ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রোববার (২৮ জুন) সকালে নগরীর রুপাতলী এলাকায় কারখানার প্রধান ফটক থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি গ্যাস টার্বাইন এলাকা হয়ে রূপাতলী গোলচত্বর সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সকাল ১১টার দিকে রূপাতলী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করেন প্রায় ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারী।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দার। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশ দেওয়ার পর গত ১৮ দিন ধরে শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বকেয়া বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অনেক শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি পূরণের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।
সমাবেশে বাসদের জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা দাবি করছেন। অথচ কারখানার মালিক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে বিদেশে অবস্থান করছেন। শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাতে দেওয়া এক নোটিশে জানানো হয়, ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল সংকট এবং ডলার-এলসি জটিলতার কারণে ১৩ জুন থেকে অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করেন বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী। সে সময় তিনি দাবি করেন, মালিকানা পরিবর্তনের কারণেই উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন মালিকের অধীনে বর্তমান প্রায় ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং তাদের সকল বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।