
নাটোরে দুই শিশুর মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বায়েজিদ (৮) নামে এক শিশুর হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টম্বর) দুপুরে শহরের বড়হরিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশু বায়েজিদকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে চেয়ারম্যান রোড এলাকার বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের ছেলে। বায়েজিদ নাটোর পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত শিশুর বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত। নাটোর শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকায় তার নিজস্ব বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করেন। ওই বাড়ির একটি অংশে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল আহমেদ ভাড়া থাকেন। বায়েজিদ ও শাকিলের চার বছর বয়সী কন্যা শিশু নিয়মিত একসঙ্গে খেলাধুলা করত। খেলাধুলার একপর্যায়ে দুই শিশুর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর কনস্টেবল শাকিল বায়েজিদকে নিজ বাসায় ডেকে নেন। সেখানে ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে শিশুটির ডান হাতের একটি আঙুল কেটে দেন। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর কনস্টেবল শাকিল আহমেদের বাসায় গিয়ে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কনস্টেবল শাকিল তার কন্যা শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের মৌখিক অভিযোগ তুলে চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই শিশুর হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার মতো ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।