
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। খতিয়ানের তথ্য সরবরাহের নামে অর্থ দাবি ও গ্রহণের অভিযোগে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর তাকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে তাকে সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খতিয়ানের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ মুসলমান।
অভিযোগকারী সবুজ মুসলমান জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে এসএ খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় অফিস সহায়ক হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. রাকিব তাকে জানান, খতিয়ান খুঁজে দিতে কয়েক দিন সময় লাগবে এবং কাজটি ঝামেলার। একপর্যায়ে কিছু টাকা দিলে খতিয়ান খুঁজে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে সার্চিং ফি হিসেবে রাকিবকে ৩০০ টাকা দেন সবুজ। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়।
সবুজ জানান, ওই খতিয়ানগুলোর কপি পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে দেওয়া যাবে বলে জানান রাকিব এবং তাকে রোববার অফিসে যেতে বলেন। সেদিন অফিসে গেলে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানান, ওই খতিয়ান দেওয়ার নিয়ম তাদের নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা করে মোট ১ হাজার ৮০০ টাকা দিলে তা দেওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। এ নিয়ে ‘দরকষাকষির’ একপর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
পরে ১ হাজার টাকা দিলে অফিস সহায়ক রাকিব খতিয়ানের নথির ছবি তুলে একটি কম্পিউটারের দোকানির কাছে পাঠান। সেখান থেকে প্রিন্ট করে আনতে বলা হয় সবুজকে। পরে কম্পিউটারের দোকানে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টি খতিয়ানের মধ্যে ১৬টির কপি সংগ্রহ করেন তিনি। বাকি দুটি খতিয়ান দেওয়া হয়নি। সেগুলো নিতে আবার গেলে তাকে সোমবার আসতে বলা হয়। তবে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাননি বলে অভিযোগ করেন সবুজ।
তিনি আরও জানান, ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা টাকা নিলেও কোনো রসিদ দেননি। শুধু তিনি নন, তার মতো আরও অনেক সেবাপ্রত্যাশী টাকা দিয়ে সেবা নেন। দীর্ঘদিন ধরে খাজনা, খতিয়ান ও নামজারির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওই অফিসের কর্মকর্তা—কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেওয়া মো. রাকিব অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, ওই টাকা কোনো সরকারি ফি নয়; অভিযোগকারী খুশি হয়ে তাকে দিয়েছেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন বলেন, টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও তাদের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তাকে সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অফিস আদেশে বজলুর রহমানকে ওই দিন বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।