
রেনু বেগমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘জরায়ু টিউমারের অপারেশন করাতে গিয়ে লাশ হলেন রেনু বেগম: ভুল চিকিৎসা ও প্রলোভন দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. মো. আমীর হামজা। একই সঙ্গে ওই সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর দাবি করে ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. মো. আমীর হামজা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নিহত রেনু বেগম পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর হলতা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার স্ত্রী।
তিনি জানান, গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জরায়ুতে টিউমারের সমস্যা নিয়ে রেনু বেগম কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি হন। ভর্তির পর প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ওষুধের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ১৪ অক্টোবর তাঁর জরায়ুর টিউমারের অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। অপারেশনের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থতা অনুভব করছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ডা. আমীর হামজা আরও বলেন, ১৯ অক্টোবর রেনু বেগম বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁর ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীকে ভর্তি করার পর পুনরায় ইসিজি করা হয়। সেখানেও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা শনাক্ত হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেনু বেগমের মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. আমীর হামজা দাবি করেন, রেনু বেগমকে শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র ও ইসিজি রিপোর্ট সংরক্ষিত রয়েছে। এসব নথি থেকেই রোগীকে যথাসময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত রেনু বেগমের স্বামী দুলাল মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ডা. মো. আমীর হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর স্ত্রী জরায়ুর টিউমারের অপারেশনের পর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ডা. আমীর হামজা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম গুলোর কাছে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরার দাবি জানান। পাশাপাশি সংবাদে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণে যে মানহানি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
তবে সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ এবং চিকিৎসকের পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের সচেতন ব্যক্তিরা।