রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
আমতলীতে শালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমতলী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহীন আকনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার রাতে আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী সদর ইউনিয়নের মানিকঝুড়ি এলাকার মোসা. শিল্পী বেগম ও তার খালাতো ভাই শিপন হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার রাতে সাবেক ইউপি সদস্য ও আমতলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম হাওলাদারের নেতৃত্বে বাজারের একটি ঘরে শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক চলাকালে আমতলী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহীন আকন ভুক্তভোগী নারী শিল্পী বেগমকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। এ সময় স্থানীয় ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী বাহাদুর মিয়া এর প্রতিবাদ করলে শাহীন আকন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে তার নেতৃত্বে সহযোগীরা বাহাদুর মিয়া ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় শাহ আলম, আবুল বাসার, হাসান ও শহিদুল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাসেল চৌধুরী গুরুতর আহত শাহ আলম ও হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অপর দুইজন আমতলী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহীন আকন, তার বাবা শানু আকন ও ভাই শামিম আকনকে আটক করে। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিল্পী বেগম বলেন, শাহীন আকন আমাকে গালাগাল করছিল। বাহাদুর প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার স্বজনদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
শালিস বৈঠকের আয়োজক সাবেক ইউপি সদস্য জসিম হাওলাদার বলেন, “শালিসের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে আসা লোকজনের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শালিসের ভেতরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা হয়নি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, “এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।