বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) অনুমোদন ও নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই নগরীর রূপাতলী অস্থায়ী পশুর হাটে কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সাবেক কাউন্সিলার ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় গত বছরের পশুর হাটের স্থানে ইতোমধ্যে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে গেট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেকোরেটরের বাঁশ ও কাপড় দিয়ে পশুর হাটের প্রবেশ গেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ফিরোজ আহমেদ এবং তার জামাতা ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. রিয়াজুল রহমান রিয়াজের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ কাজে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীও যুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, যুবদলের আহ্বায়ক জামান খান এবং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, “এখন পর্যন্ত কাউকে পশুর হাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাহলে কীভাবে গেট নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলো, সেটি যারা করছে তাদের কাছ থেকেই জানতে হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে সাবেক কাউন্সিলর মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, “বিসিসির প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। পশুর হাটটি আমাদের দেওয়া হবে। নগরীর ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের যুব সমাজের উদ্যোগে গেট নির্মাণ করা হয়েছে।”
২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. রিয়াজুল রহমান রিয়াজ বলেন, “গেট নির্মাণের স্থানে আমি এমনিতেই গিয়েছিলাম। যতদূর জানি, এ বছর পশুর হাটটি সবাইকে মিলিয়ে দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এখন পর্যন্ত বিসিসি কাউকে অনুমোদন বা ইজারা দেয়নি, এটা সত্য। তবে সবাই মিলে হাট আনার চেষ্টা চলছে। অনুমতি পাওয়ার আগেই গেট নির্মাণ হওয়াটা অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেয়। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
এ বিষয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারবো।”
যুবদলের আহ্বায়ক জামান খান বলেন, “মুঠোফোনে এ বিষয়ে কিছু বলবো না। সরাসরি দেখা হলে কথা বলবো।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রূপাতলী অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা পেতে একাধিক ব্যক্তি বিসিসির কাছে আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন বা ইজারা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে বিষয়টির সমাধান না হলে হাট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্থায়ী ও তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দিয়ে থাকে। স্থায়ী হাট হলো বাঘিয়া পশুর হাট এবং অস্থায়ী হাটগুলো হলো রূপাতলী পশুর হাট, কালিজিরা বাজার পশুর হাট ও কাগাশুরা পশুর হাট।