বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাদারীপুরের ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামি ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার বরিশালে চিকিৎসকের জমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষের পায়তারা, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানও ব্যাহত! চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে উজিরপুরে মানববন্ধন টপটেন জেনারেল হাসপাতালে মঠবাড়িয়া ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু কাজিরহাট পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার বরিশালে আটকে থাকা ২০০ ভবনের প্ল্যান হস্তান্তর এক ইনজেকশন ১৫ হাজার টাকা, আইসিইউতে ছেলেকে নিয়ে নিরুপায় আসলাম মেহেন্দিগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা : ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন বরিশালে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
এক ইনজেকশন ১৫ হাজার টাকা, আইসিইউতে ছেলেকে নিয়ে নিরুপায় আসলাম

এক ইনজেকশন ১৫ হাজার টাকা, আইসিইউতে ছেলেকে নিয়ে নিরুপায় আসলাম

সাত মাসের তাজিম হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রাজধানীর শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে, তিন দিনে তার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সামান্য সঞ্চয় আর ধার—দেনা করে এই টাকার ব্যবস্থা হলেও এখন জমি বিক্রি ছাড়া উপায় দেখছেন না তার প্রতিবন্ধী বাবা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের হাম বিশেষায়িত ওয়ার্ডে তাজিমের বাবা মো. আসলামের সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। সন্তানের শারীরিক অবস্থার অবনতি আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দুশ্চিন্তা—হতাশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কথা বলছেন তিনি।

আসলাম বলেন, টানাটানির সংসারে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে তার দিন চলে। কিঞ্চিৎ সঞ্চয় ছিল, আর বাকিটা ধার—দেনা করে সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আইসিইউতে ভর্তির পর ছেলের জন্য একটা ইনজেকশন কিনতে লাগছে ১৫ হাজার টাকা। সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তার সঙ্গে খরচের কথা ভেবেই যেন কূল—কিনারা পাচ্ছেন না।

আসলামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার মাঝবাড়ি গ্রামে। এক সপ্তাহ ধরে তার ছোট ছেলে তাজিম অসুস্থ।

শুরুতে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। প্রথমে গোপালগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিলেও সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শনিবার ছেলেকে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে ভর্তি করান আসলাম।

তিনি বলেন, “তিন দিনে তার পেছনে ওষুধ ও হাসপাতালে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর আগে গোপালগঞ্জ চিকিৎসা করতে আরো ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়ার পর থেকে আরও খরচ হচ্ছে।

ছেলের শারীরিক অবস্থা ‘ভালো নয়’ জানিয়ে আসলাম বলেন, “একটা ইনজেকশন কিনতে ১৫ হাজার টাকা যাইতেছে। এত টাকার চিকিৎসা কীভাবে করাবো। সামনে আরো টাকা লাগলে জমি বিক্রি ছাড়া উপাই নাই।

আসলামের হাতে একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সেখানে ‘নরমোগ্লোবিন’ (২.৫) ইনজেকশনের কথা লেখা রয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে এক চিকিৎসক বলেন, আইসিইউতে বাচ্চার শারীরিক অবস্থার খুবই অবনতি হলে ইমিউনিটি বাড়াতে এক ধরনের ইনজেকশন দিতে হয়, যার দাম ১৫ হাজার টাকা।

“এটি বাচ্চার ওজন অনুসারে দুইটি থেকে ছয়টি দিতে হয়, যা শিশুর শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে সর্বোচ্চ কাজ করে।”

আসলাম বলেন, “জন্মগতভাবে আমার দুই পা অচল। কোনোরকম ব্যাটারিচালিত ভ্যান দিয়ে সংসার চালাই। আমার কিছু টাকা ছিল সেটা দিয়ে এতদিন খরচ করছি। কিন্তু এখন আর আমার কাছে কোনো টাকা নাই। আরো কিছু টাকা ধার—দেনাও হয়ে গেছে।

“হামে কীভাবে কী হলো বুঝিই নাই। এখন ডাক্তার বলে ছেলের অবস্থা খারাপ। তবে এসব অসুখের সব কিছু যদি সরকার না দেয় আমাদের মতো মানুষের পক্ষে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।”

তাজিমের মা হাসনা হেনা বলেন, “বাবুর অবস্থা ভালো নয়। আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost