বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
নওগাঁর মান্দায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে সরকারি বরাদ্দের ৯০০ কেজি ভিজিএফের চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সরকারি চাল কালোবাজারি ও পাচারের অভিযোগে উজ্জ্বল সাকিদার নামের এক ভ্যানচালককে আটক করেছে পুলিশ।
তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনার মূলহোতা মৈনম ইউনিয়নের কালোবাজারি বাবু মণ্ডলসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে যান। বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার মৈনম ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ সরকারি ভিজিএফের চাল অবৈধভাবে মজুত করে খোলাবাজারে চড়া দামে বিক্রির পরিকল্পনা করা হচ্ছে— এমন একটি গোপন সংবাদ আসে পুলিশের কাছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশের একটি টিম ওই এলাকায় অভিযানে নামে।
অভিযানকালে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে মৈনম ইউপি সংলগ্ন বাবু মণ্ডলের বাড়ির মূল ফটকের পাশে থাকা একটি টিনশেড রান্নাঘরে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে ৩০টি বস্তায় ভর্তি মোট ৯০০ কেজি সরকারি ভিজিএফের চাল জব্দ করা হয়।
এদিকে, একই সময়ে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় নিন্দইন ব্রিজ মোড় থেকে মৈনম বাজার হয়ে বাবু মণ্ডলের বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে একটি সন্দেহভাজন ভ্যান আটক করে পুলিশ। ভ্যানে থাকা সরকারি চালের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চালক উজ্জ্বল সাকিদার স্বীকার করেন যে, তিনি টিসিবির পণ্য ও সরকারি চাল অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাবু মণ্ডলের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাকে আটক এবং ভ্যানটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক উজ্জ্বল সাকিদার, পলাতক বাবু মণ্ডলসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সরকারি চাল মজুত ও কালোবাজারি করে আসছিল। তারা দুস্থদের চাল খোলাবাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১)/২৫—ডি ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একজনকে আটক করা হলেও এর সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পলাতকদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।