বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
পুলিশি অনুমতি না পেয়ে জাপার সভার ভেন্যু পরিবর্তন, যা বললেন মহাসচিব আগৈলঝাড়ায় নারীর পায়ের রগ কাটার অভিযোগ ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি এলজিইডিতে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি ঠিকাদারের অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ায় পিআইওর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেহেন্দিগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু মঠবাড়িয়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন, ইউএনওর দাবি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়রানি বরিশাল নগরীর কেডিসি বস্তি থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার বরিশালে বাস ও মাহেন্দ্রার সংঘর্ষে নারী নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ সদস্য আটক মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর
কম্বোডিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে প্রতারণা করতে বাধ্য করার অভিযোগ

কম্বোডিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে প্রতারণা করতে বাধ্য করার অভিযোগ

‎বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার দুই যুবককে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও জিম্মি করে প্রতারনাসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডে জড়াতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত প্রতারক আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বেপারী ও তার ছেলে সিয়াম হোসেনের নির্দেশ মোতাবেক প্রতারনার কাজ না করলেই ওই দুই যুবককে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন শহরে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।

আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল গ্রামের বাসিন্দা ‎ভুক্তভোগী আরিফ হোসেন মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে বলেন, কামাল হোসেন বেপারী তাকে বৈধ কোম্পানির অফিসিয়াল কম্পিউটার ভিত্তিক চাকরির প্রলোভনে মাসিক দেড় লাখ টাকা বেতন দেওয়ার কথা বলে এবং এক বছরের ভিসাসহ ওয়ার্ক পারমিটের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

‎এসব প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে চার দফায় তার (আরিফ) কাছ থেকে কামাল হোসেন মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। ‎কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পেয়েছেন প্রতিশ্রুত চাকরির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অফিসিয়াল চাকরির পরিবর্তে তাকে বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগ করে কথিত ঋণ (লোন) দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।

‎আরিফ জানিয়েছেন, তাকে এক বছরের ভিসা দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র তিন মাসের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ করে আরিফ বলেন, আমার পাসপোর্ট কামাল হোসেন তার কাছে রেখেছেন। চার মাসেরও অধিক সময় ধরে কাজ করার পরেও তাকে বেতনের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছেনা। বেতন ও বৈধ কাগজপত্রের দাবি জানালে তাকে কামাল ও তার ছেলে সিয়াম একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন করেছেন।

একই অভিযোগ করেছেন, আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ মোল্লা।
‎তার দাবি, কামালের প্রলোভনে পরে ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তাকেও বৈধ প্রতিষ্ঠানে অফিসিয়াল চাকরি ও মাসিক এক লাখ টাকা বেতনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও তাকে কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। বরং বিদেশে থাকা ও খাওয়ার খরচ চালানোর জন্য পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে কয়েক দফায় টাকা পাঠাতে হয়েছে।

‎আরিফ অভিযোগ করেন, কম্বোডিয়ায় গিয়ে তিনি কামাল হোসেন ও সিয়ামের এমন একটি প্রতারক চক্রের কার্যক্রম দেখতে পেয়েছেন। যারা বিভিন্নধরনের সাইবার প্রতারণামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। তার (আরিফ) দাবি, চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ—নগদ) সংক্রান্ত প্রতারণা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছেন।

আরিফ আরও অভিযোগ করেন, চক্রটির অধীনে একাধিক টিম কাজ করে এবং তাকেও এসব কর্মকান্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে আপত্তি জানালে এবং নিজের পাওনা বেতন ও বৈধ কাগজপত্র দাবি করলে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।

‎আরিফের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে আরিফ সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অনেক কষ্টে ধারদেনা করে, জমিজমা ও সহায় সম্বল বিক্রি করে কামাল হোসেনের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করে তাকে (আরিফ) বিদেশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দালাল কামালের খপ্পরে পরে বর্তমানে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমার ছেলে এখন কম্বোডিয়ায় অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

আমার ছেলেকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাসহ জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

‎সৌরভের বাবা জাহাঙ্গীর মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ভাগ্যের চাকা বদলের আশায় ধারদেনা করে ও জমিজমা বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। দালালের চক্করে পরে আজ আমি সর্বস্বান্ত। আমার ছেলেকে বৈধ কোম্পানির অফিসিয়াল কাজ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দালাল কামাল হোসেন ও তার ছেলে সিয়াম আমার ছেলে সৌরভকে বিভিন্ন অবৈধ কাজ করতে বাধ্য করছেন।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত, বেতন বঞ্চনা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হৃ

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost