বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দুই সন্তানের জননী দীপালি সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রত্নপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চৈতন্য সরকারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বিরোধের জেরে গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার পূর্ব মোহনকাঠি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহনকাঠি গ্রামের নির্মল সরকারের স্ত্রী দীপালি সরকারের (৪৮) সঙ্গে একই গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চৈতন্য সরকারের (৪৫) দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি চৈতন্যকে ছেড়ে দীপালি নতুন করে অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এর ফলে চৈতন্যর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গতকাল বিকেলে দীপালি সরকারের স্বামী নির্মল সরকার আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলে বাড়িতে একা ছিলেন দীপালি। এ সময় চৈতন্যর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দীপালির পায়ের রগ কেটে দেন চৈতন্য। পরে চৈতন্যই দীপালিকে স্থানীয় সুনীল ঢালীর ভ্যানে করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে রত্নপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুখদেব বাড়ৈ চৈতন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলেন, ‘দীপালির চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছি।’
সুখদেব বাড়ৈ বলেন, ‘এই সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার সালিস বৈঠক হয়েছে। তারপরও তারা অবৈধ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেনি।’
অভিযুক্ত চৈতন্য সরকার বলেন, ‘দীপালি আমার বৈধ স্ত্রী। আদালতের মাধ্যমে আমরা বিয়ে করেছি। সে তার স্বামী নির্মল সরকারকে ডিভোর্স দিয়েছে। যার কারণে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে এসেছি।’
আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, ঘটনা শুনে এসআই মাকসুদুর রহমানকে পাঠানো হয়েছিল। রোগী বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দিতে চায়নি।
এর আগে ঘটনা জানার পর আগৈলঝাড়া থানার এসআই মাকসুদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে কোনো আলামত বা কিছু জব্দ না করেই তিনি ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।