ঝালকাঠি সদর উপজেলার এলজিইডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লা হেল বাকি চৌধুরীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বসবাস ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দপ্তরের কার্যক্রমে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাবেই দীর্ঘদিন একই পদে বহাল রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গাভারামচন্দ্রপুর, নবগ্রাম, ধানসিঁড়ি, গাবখান ও বাসন্ডা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত সড়ক, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্প শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ও স্থাপনায় ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিচ্ছে, বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বিল ছাড় করতে ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল আটকে রাখা কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হয় বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয়দের মতে, কমিশন বাণিজ্যের প্রভাব সরাসরি উন্নয়ন কাজে পড়ছে। অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতে গিয়ে অনেক ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন। এছাড়া অধিকাংশ প্রকল্প নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদার গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে ভুয়া বিল—ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প অনুমোদনে প্রভাব খাটানো এবং দাপ্তরিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। তার অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, তার নামে—বেনামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লা হেল বাকি চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে উন্নয়ন প্রকল্পে জনআস্থা আরও কমে যাবে এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি বাড়বে।