বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের গোদন্ডা এলাকায় দুই পাশে দৃশ্যমান কোনো খালের অস্তিত্ব না থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু।
সেতুটিকে কার্যকর করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানপাশা জিসি–তালতলা–ভবানীপুর হয়ে নাচনমহল ইউনিয়ন সড়কের ফুলতলা আরএইচডি সড়কের ওপর সুবিদপুর ইউনিয়নের গোদন্ডা এলাকায় বিডিআইআরডবলুএসপি (ইউওজডঝচ) প্রকল্পের আওতায় ১০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ টাকা ৯৬ পয়সা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস ইসলাম ব্রাদার্স লিমিটেড।
২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৯ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেখানে বর্তমানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে আগে একটি ছোট খালের ওপর বক্স কালভার্ট ছিল। সময়ের ব্যবধানে খালটি ভরাট হয়ে গেলেও ওই স্থানে নতুন করে স্ল্যাব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে সেখানে কার্যকর কোনো খাল না থাকায় সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সময় যথাযথ পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে এখন সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে পাশের কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্বাস হাওলাদার বলেন, “সেতুটি চালু করতে হলে আমাদের বাড়ির সামনের অংশ দিয়ে রাস্তা নিতে হবে। এতে আমাদের পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। আমরা এ সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান চাই।”
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরিকল্পনাহীনভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আযম বলেন, “আমি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক বলেন, “সেতুটি পূর্বের একটি কালভার্টের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি এবং স্থানীয়দের ক্ষতি না করে কীভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে বাস্তব অবস্থা ও জনস্বার্থ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতো না। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।