শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
আইন সবার জন্য সমান—এমন নীতির কথা বলা হলেও বরিশালে তেল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আলোকে থানা থেকে আদালতে নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের আচরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হলেও আলাউদ্দিন আলোকে হাতকড়া না পরিয়ে থানা থেকে আদালতের গাড়িতে করে নেওয়া হয়েছে, যেখানে একই অভিযানে আটক অন্যদের হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে বৈষম্য, পক্ষপাত ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, বরিশাল নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২০ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) ও গোয়েন্দা শাখা। শনিবার বিএমপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ জুন বরিশাল মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক অভিযানকারী দল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৩ জন, নিয়মিত মামলায় ৫৭ জন, বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ৬ জন এবং অন্যান্য আইনে ১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে এই অভিযানে আটক তেল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আলোকে আদালতে পাঠানোর সময় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশাল কোতোয়ালি থানা থেকে বের করে নেওয়ার সময় আলাউদ্দিন আলোর হাতে কোনো হাতকড়া ছিল না। বরং তার পাশে ছিলেন স্টিমার ঘাট ফাঁড়ির এএসআই আমিনুল, তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আলোকে বেশ স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতে দেখা যায়; এমনকি তিনি প্যান্টের পকেটে হাত রেখেই পুলিশের সঙ্গে গাড়িতে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, আলাউদ্দিন আলোর সঙ্গে স্টিমার ঘাট ফাঁড়ির কিছু কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের সখ্য ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সম্পর্ক থাকায় তাকে এ ধরনের ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র—জনতার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও আলাউদ্দিন আলোকে দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং স্টিমার ঘাট ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনরত কিছু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে আশ্রয়—প্রশ্রয় দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, একই মামলায় আটক অন্য ৭৬ জনকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে পাঠানো হলেও আলাউদ্দিন আলোর ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম হলো? আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর জন্য কেন আলাদা আচরণ করা হবে—এমন প্রশ্ন এখন নগরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মিছিল—সমাবেশ বা অপতৎপরতা ঠেকাতে নগরীতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল ষ্টীমার ঘাট ফাড়িতে কর্মরত এ এস আই আমিনুল বলেন আমি তখন ডিউটিতে ছিলাম না আমি পাশে ছিলাম গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি মাত্র। কর্মরত অফিসার বিষয়টি বলতে পারবেন।
অন্যদিকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন,“বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু আমি এইমাত্র জানলাম, আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। আইন সবার জন্য সমান। তবে কেউ শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলে তার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”