রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কলাপাড়ায় সাংবাদিক মোয়াজ্জেমের ওপর ছাত্রদলের হামলা বরগুনায় সাঁতার শেখাতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল মামা-ভাগ্নের জামালপুরের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গুলশানে গ্রেপ্তার নলছিটি থানার নবাগত ওসির সঙ্গে নলছিটি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ কাউখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পাওয়ার গ্রিড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির বরিশাল শাখার নির্বাচন সম্পন্ন – সভাপতি জিকো হোসাইন, সম্পাদক মহসিন আহমেদ পটুয়াখালীতে পাট, পাটজাতীয় আঁশ ও বীজ উৎপাদন বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ’ ব্ল্যাকমেইল চক্রের রাজত্ব, নেপথ্যে রাব্বি-বৃষ্টি নানা বিতর্ক ও অভিযোগের মুখে উজিরপুর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এস এম মাইদুল ইসলামের বদলি সরকারি নতুন বইসহ ট্রাক জব্দ
উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর লাখ টাকা উধাও

উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর লাখ টাকা উধাও

মাগুরার মহম্মদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর জমানো প্রায় ১ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ভবনের একটি খোলা ঘরের দরজা লাগানোর জন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ওই টাকা সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরে দরজা লাগানোর জন্য নিজ ইচ্ছায় ওই টাকা উপজেলা পরিষদে জমা দিলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশেও ওই টাকা তার হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় এক জনপ্রতিনিধি ও এক সরকারি কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মৃত আব্দুর রশিদের মেয়ে খুরশিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে নিয়ে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় পথে—প্রান্তরে কাটলেও রাত হলে উপজেলা পরিষদের বারান্দা কিংবা খোলা কোনো প্রকোষ্ঠে আশ্রয় নেন তিনি।

সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের পাশের একটি খোলা প্রকোষ্ঠে ছেলেকে নিয়ে রাতযাপন শুরু করেন খুরশিদা। সেখানে কোনো দরজা না থাকায় নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। একপর্যায়ে ওই প্রকোষ্ঠে দরজা লাগানোর জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন খুরশিদা বেগম উপজেলা পরিষদের নাজিরখানায় গিয়ে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে টাকাগুলো জমা দেন। একইসঙ্গে ওই প্রকোষ্ঠে একটি দরজা স্থাপনের অনুরোধ জানান।

বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী তাকে একটি ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং টাকাগুলো ফেরত নিয়ে যেতে বলেন। তবে তিনি ওই টাকা না নিয়েই সেখান থেকে চলে যান।

পরে ইউএনও টাকাগুলো খুরশিদা বেগমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার দুই সপ্তাহ পরও তারা টাকাগুলো ওই নারীর হাতে পৌঁছে দেননি।

বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৪ জুন ওই দুই ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন ইউএনও। নোটিশে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, একজন অসহায় নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, যে নারী একটি দরজা লাগানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছেন, তার কষ্টার্জিত অর্থও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost