রবিবার, ১৯ Jul ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
বরগুনার বামনা উপজেলার এক প্রবাসী মা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, আদালতের আদেশে জিম্মায় ফিরে পাওয়া তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে পুনরায় অপহরণ করা হয়েছে। এ সময় তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসাঃ সুলি আক্তার (৪৮)। তিনি বলেন, তিনি প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর এবং তার স্বামী প্রায় ৩০ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্মও সৌদি আরবে। প্রায় দুই বছর আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এসে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ফারহানা আক্তার সুমাইয়া (১৪)—কে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের শাহারিয়ার রাফি তার মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই মেয়েটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে প্রথমে তাকে নিরাপদ আবাসনে পাঠানো হয়। পরে গত ১২ জুলাই ২০২৬ আদালত মেয়েটিকে মায়ের জিম্মায় প্রদান করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, একই দিন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেয়েকে নিয়ে সিএনজিযোগে বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে।
তার অভিযোগ, শাহারিয়ার রাফির নেতৃত্বে আমজেদ আলী খান, শামীম খান, রুমি বেগম, রুহুল আমীনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জন সিএনজি থামিয়ে জোরপূর্বক তার মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তাকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করা হয়। এরপর তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে থাকা ৯টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় তার স্বামীকেও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এ ঘটনায় তিনি মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুলি আক্তার বলেন, আমি একজন অসহায় মা। আদালতের জিম্মায় ফিরে পাওয়া আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে প্রকাশ্যে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার মেয়ের নিরাপদ উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তিনি প্রশাসনের প্রতি চারটি দাবি জানান অপহৃত কিশোরী ফারহানা আক্তার সুমাইয়াকে দ্রুত জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে হবে।হামলা, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।ছিনিয়ে নেওয়া নগদ অর্থ, পাসপোর্ট, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করতে হবে।নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী, প্রশাসন ও সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।