বরিশালের চিকিৎসা ও প্যাথলজি অঙ্গনের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত প্যাথলজিস্ট ডা: কমলেন্দু বিশ্বাস আর নেই। হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া) জনিত জটিলতায় তিনি শুক্রবার (১৭ জুলাই) আনুমানিক রাত ১টা ৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
জানা যায়, প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর তত্ত্বাবধানে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী গ্রুপ ল্যাবরেটরি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছিল। নির্ভুল ও মানসম্মত পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানে তিনি ছিলেন আপসহীন। চিকিৎসকদের কাছে তাঁর ল্যাবের রিপোর্ট ছিল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। জটিল ও পুনঃপরীক্ষার (জবঢ়বধঃবফ ঈধংব) জন্য বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকার চিকিৎসকরা নিয়মিত তাঁর ল্যাবে নমুনা পাঠাতেন।
সহকর্মী ও চিকিৎসকদের মতে, লাভের চেয়ে সঠিক রোগ নির্ণয়কেই তিনি সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর রিপোর্টের সুনাম শুধু বরিশালেই সীমাবদ্ধ ছিল না; দেশের বাইরেও, বিশেষ করে ভারতের অনেক চিকিৎসক তাঁর রিপোর্টের নির্ভুলতার প্রশংসা করতেন। প্যাথলজি জগতে তাঁর দক্ষতা ও সততার কারণে তাঁর রিপোর্ট ছিল চিকিৎসকদের কাছে আস্থার প্রতীক।
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সন্তান ডা: কমলেন্দু বিশ্বাস চিকিৎসা সেবায় আজীবন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বরিশালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে সন্তানের জনক। তাঁর একমাত্র ছেলে সুব্রত বিশ্বাস দেশের খ্যাতিমান জাদুশিল্পী। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি দেশ—বিদেশে জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘বরিশাল মুক্তখবর’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা: কমলেন্দু বিশ্বাসের মৃত্যুতে চিকিৎসা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, পেশাগত সততা ও নির্ভুলতার প্রতি অঙ্গীকার তাঁকে বরিশালের চিকিৎসা ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবে।