
বিকাশ এজেন্টদের তথ্য ব্যবহার করে হ্যকিং এর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের এক সাবেক ডিএসআর (ডিস্ট্রিবিউটর সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) কর্মী সোহরাবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চাকরির সুবাদে বিভিন্ন এজেন্টের তথ্য ও নম্বর ব্যবহার করে হ্যাকিং ও প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহরাবের বাড়ি বাখেরগঞ্জ উপজেলার শশী গ্রামে। চাকরির সুবাদে তিনি বরিশাল নগরীর বেলতলা এলাকার মাহমুদিয়া মাদ্রাসা কম্পাউন্ডে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি বাজার রোডের সাদ সাইদ বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানে ডিএসআর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।সোহরাব বরিশাল বেলতলা বাজার ইমাম মেডিকেল হলের ইমামের বোন জামাই।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির সময় বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের তথ্য ও ব্যবসায়িক নম্বরের সঙ্গে তার পরিচিতি গড়ে ওঠে। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা চক্রের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের অজান্তে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যবসায়ী নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সোহরাব ইমাম মেডিকেল হল, সুনান স্টোর ও তাকওয়া সুপার শপসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট নম্বর ব্যবহার করে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তবে স্থানীয়দের দাবি এই প্রতারণার সাথে তার স্ত্রীর ভাই ইমাম জড়িত।প্রতারনার টাকায় তার স্ত্রীর ভাই ইমাম কে বরিশালের বেলতলা বাজারে ইমাম মেডিকেল হল নামে একটি ফার্মেসি করে দিয়েছে।যার দেখাশুনা ইমাম করে আসছে।
এদিকে লালমনিরহাট সদর থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগে ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত ১৭ জুন প্রতারক চক্রের সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার পরিচয়ে ফোন করে তার কর্মচারীর কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। পরে তার নগদ, বিকাশ ও রকেট এজেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর থেকে মোট ৬ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৯ টাকা বিভিন্ন নম্বরে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রতারকরা কৌশলে কর্মচারীকে একটি কোড ডায়াল করতে বলে এবং এর পরপরই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সোহরাবের কর্মস্থলে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, তিনি প্রায় এক মাস আগে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। চাকরি ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তাদের নজরে আসে।
অভিযোগের বিষয়ে সোহরাবের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।