, , ,
শিরোনাম
সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ আনন্দ ভ্রমণেই শেষ যাত্রা: শাপলা বিলে ডুবে তরুণ পর্যটকের মৃত্যু উজিরপুরে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ ৩০ লাখ টাকার জাল বামনার ডৌয়াতলায় পূবালী ব্যাংক পিএলসি—র উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস লেনদেন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢালাইয়ের পরই সেতুর পাটাতনে ধস, তদন্তে ২ কমিটি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদে, চালকসহ আহত ৬ কাউখালীতে সবজির বাজারে আগুন: নাগালের বাইরে নিত্যপণ্য, বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত দুমকিতে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার তথ্য ফিল্টারিং করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ফিল্টারিং করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ফিল্টারিং করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী

Reporter
প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, বর্তমানে তথ্য ফিল্টারিং করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমকে দুই ধরনের মানুষ ব্যবহার করছেন এবং উভয়ের হাতেই সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র রয়েছে। একদল তথ্যপ্রবাহে বস্তুনিষ্ঠতা যাতে দূষিত না হয়, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অন্যদিকে আরেক দল সাংবাদিকতার আড়ালে তথ্যকে দূষিত করার কাজ করছে। তাই সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আজ সোমবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

মন্ত্রী বলেছেন, কোনটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা আর কোনটি ব্ল্যাকমেইলিং, সেই বিভাজন স্পষ্ট করতে না পারলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে পৃষ্ঠপোষকতা করা সম্ভব হবে না। তবে এই কাজ সরকার একা করতে পারবে না; সাংবাদিক সমাজেরও সক্রিয় অংশীদারত্ব প্রয়োজন।

তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশাকে কাঠামোবদ্ধ করতে না পারার কারণে আগে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘ফ্রিডম অব প্রেস’। এখন তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মিসইনফরমেশন’।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যেসব বিশিষ্ট সম্পাদক, সাংবাদিক ও পত্রিকার মালিকদের তিনি সাক্ষাৎ করিয়েছেন, তারা সবাই জানিয়েছেন যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তারা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করেননি। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, সাংবাদিকদের জীবনমানের কি গুণগত পরিবর্তন হয়েছে? তাদের পেশাগত নিরাপত্তা কি বেড়েছে? বেতনের নিশ্চয়তা, কর্মপরিবেশ কিংবা মালিক—সাংবাদিকের সম্মানজনক সম্পর্ক কি নিশ্চিত হয়েছে? ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে সরকার তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছে কি না, সেটিও ভাবার বিষয়।

তিনি বলেছেন, এখন আর রাষ্ট্র বনাম স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরোধই একমাত্র বিষয় নয়; বরং বড় প্রশ্ন হলো— একজন যোগ্য, পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে এ পেশায় টিকে থাকতে পারবেন কি না, অবসরপরবর্তী জীবনে তিনি অন্য পেশাজীবীদের মতো নিরাপদ জীবন পাবেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সবার সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেছেন, তিনি মালিকপক্ষের সঙ্গে ওয়েজ বোর্ড, সম্পাদকদের সঙ্গে সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।

তিনি আরও বলেছেন, সরকারি বিজ্ঞাপন, মিডিয়া তালিকাভুক্তি ও ক্রোড়পত্র বণ্টনের ক্ষেত্রে এখনো কার্যকর কোনো নীতিমালা নেই। টেলিভিশন সাংবাদিকতায় টিআরপি নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। মাত্র কয়েকটি সেট—টপ বক্সের তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তিকর হিসাব উপস্থাপন করা হচ্ছে। একইভাবে অনেক পত্রিকার প্রচার সংখ্যা নিয়েও ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘যে পত্রিকা এক লাখ কপি ছাপে, তাকে ১০ লাখ কপির পত্রিকা বলা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ভুল তথ্যের অংশীদার হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি জানিয়েছেন, সরকার এর মধ্যে বিজ্ঞাপন বণ্টন, মিডিয়া লিস্টিং, ক্রোড়পত্র বণ্টন, টিআরপি এবং সংবাদপত্রের রেটিং ব্যবস্থাকে কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে সুষ্ঠু কাঠামো গড়ে তোলা না গেলে ভবিষ্যতে জাতিকে বড় মূল্য দিতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভাষা নিয়ে শুধু কথার ফুলঝুরি না ছড়িয়ে সাংবাদিকতার জ্ঞান ও দক্ষতায় গভীরতা আনতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি যতটুকু সম্ভব আপনাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। সাংবাদিকদের কল্যাণ মানেই দেশের কল্যাণ, জাতির কল্যাণ। যেকোনো মূল্যে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখতে হবে, প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে, প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে।’

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল বাছিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বিএফইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন।

এর আগে মন্ত্রী বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ায় স্বনির্ভর খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেছেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা চারাগাছের যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতি দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, দি বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost