
বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার বহুল আলোচিত মোস্তফা বয়াতি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিদ্দিক হাওলাদার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী ও নিহত মোস্তফা বয়াতির স্ত্রী আখিনুর বেগম জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজিরহাট থানার ৬ নম্বর বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা বয়াতি হেসামুদ্দি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পথরোধ করে সিদ্দিক হাওলাদার, শাহাবুদ্দিনসহ ১০—১২ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় মোস্তফার সঙ্গে থাকা মন্টু বয়াতি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী আখিনুর বেগম বাদী হয়ে কাজিরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শনিবার (২ আগস্ট) প্রধান আসামি সিদ্দিক হাওলাদার বরিশাল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার ভাই নাসির ও আসাদুলসহ মোট তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে মামলার বাদী দাবি করেছেন।
আখিনুর বেগম বলেন, বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে আমরা এলাকায় বসবাস করতে ভয় পাব। তাই মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধান আসামি সিদ্দিকের জামিন না দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সিদ্দিক হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার কারণে এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতেন।