শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সঠিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশালে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা ও দিকনির্দেশনাই তৈরি করে সফল ক্যারিয়ারের ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোসা. মেহবুবা আলম এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জনাব মাইনুল ইসলাম সাগির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব শাম্মী আক্তার।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. মাসুদ রানা, জনাব নয়ন বালা, প্রভাষক, কৃষিশিক্ষা এবং ব্র্যাকের স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক জনাব মো. রায়হান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না; ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে জ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাজীবন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সফল ক্যারিয়ার গঠনে সঠিক সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবন সম্পর্কে ধারণা দেবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে। সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করব।”
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোসা. মেহবুবা আলম বলেন, ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করার সঠিক সময় হলো শিক্ষাজীবন। শিক্ষার্থীদের নিজেদের আগ্রহ, যোগ্যতা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শুধু একটি নির্দিষ্ট চাকরির পেছনে না ছুটে পরিবর্তনশীল বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়া, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, ইংরেজি ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন এবং সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মাইনুল ইসলাম সাগির বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। ক্যারিয়ার ক্লাবের এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আলোচকদের মধ্য থেকে দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. মাসুদ রানা তাঁর আলোচনায় ক্যারিয়ার গঠনে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক চিন্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সফল ক্যারিয়ার হঠাৎ করে তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা। শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু সনদ অর্জন যথেষ্ট নয়; নিজেকে অন্যদের তুলনায় দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে হবে।
অন্য আলোচক জনাব নয়ন বালা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা, যোগাযোগের সক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগী হতে হবে।”
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন বিষয় শেখা, প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে নিয়মিত ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সেমিনারে ব্র্যাকের স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক জনাব মো. রায়হান চৌধুরী কর্মক্ষেত্রের বর্তমান চাহিদা, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সেমিনারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক—শিক্ষার্থীসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন করা এবং কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করতেই এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্যারিয়ার উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।