মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে বেআইনিভাবে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয় প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া, ২৮ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে প্রবেশপত্র ও সঠিক পরীক্ষার্থী যাচাই না করে বহিরাগত পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামির বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তফা জুবায়ের হায়দার স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পত্রে অভিযুক্তদের আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পরিচালনা পর্ষদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদ অথবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের সার্বিক সহযোগিতা করার নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন অভিযোগ সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অপর এক অভিভাবক বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সঠিক তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তফা জুবায়ের হায়দার জানান, পরিচালনা পর্ষদ থেকে ওই দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। এর সত্যতা উদঘাটন ও তাদের বিরুদ্ধে তদন্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছ।
প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে একটি গুজব উঠেছিল। আমরা ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তার অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলতে পারব না। অপর শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্রকে ফোন দিলে ফোনের কল কেটে দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।
নাজিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অ: দা:) মো. জহিরুল আলম জানান, এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।