বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বরিশালে ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা

বরিশালে ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা

বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জমির মালিকানা বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাহাত তালুকদারের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

জানা গেছে, কর্ণকাঠী মৌজার জেএল নং-৫৭ এর দাগ নং-৬৬২-এর আওতাভুক্ত ৬ শতাংশ জমি ক্রয় সূত্রে মালিক হন মাসুদ খান। প্রায় এক বছর আগে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন খানের কাছ থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন। আলামিন খানের দাবি, জমিটি তার পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ এবং তিনি আইনগতভাবে ওই জমির মালিকানা ভোগ করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ একইস্থানের ১৫ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে মুলত দ্বন্ধের শুরু হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদার বলেন, জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন আলামিন খান। তিনি আমার ফুফাতো ভাই মাসুদ খানের কাছে প্রায় এক বছর আগে ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। কিন্তু একটি জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে অহেতুকভাবে আমার নাম জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের সঙ্গে আমার মাত্র দুইবার দেখা হয়েছে-একবার বিজ্ঞ আদালতে এবং আরেকবার তহশিলদার অফিসে। আমি তাকে কোনো ধরনের হুমকি দেইনি। অথচ আমার পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাকে, আলামিন খান ও স্থানীয় লিটন মোল্লাকে আসামি করে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আমি আশা করি প্রশাসন ও আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

 

এদিকে জমির বিক্রেতা আলামিন খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ৫ দাগের জমি এক স্থান থেকে ভোগ দখলে নিতে চাচ্ছে। আমারও ৫ দাগে জমি আছে। এর মধ্যে যে অংশে আমি ৬ শতাংশ জমি পেয়েছি সেটিই মাসুদ খানের কাছে বিক্রি করেছি। অথচ আব্দুর রউফ অহেতুকভাবে মাসুদ খানের ভাই ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ-প্রচার চালায়। যেটা বিভ্রান্তিকর। এছাড়া আমাকেসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, এ ঘটনায় এমপি মামলা নং-৫৩/২০২৬ (বন্দর) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় রাহাত তালুকদার, আলামিন খান ও লিটন মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে পরবর্তীতে বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় চরকাউয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার)-কে। তদন্ত শেষে তিনি একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে শুধু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের জমি নয়, বরং উভয় পক্ষেরই জমির প্রাপ্যতা ও স্বত্ব থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদল নেতা রাহাত তালুকদারকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের প্রকাশিত বক্তব্যের পর বিভিন্ন ব্যক্তি এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান, এর মধ্যে
মো. মেহেদী হাসান রিয়াদ নামের একজন মন্তব্য করেন, রাহাত তালুকদার এমন কাজ করতে পারে না। এটা অবিশ্বাস্য এবং বিব্রতকর । একজন মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এটা করা হয়েছে। তার দ্বারা অন্য এলাকার ক্ষতি কখনোই হয়নাই। একজন মানুষকে এভাবে লাঞ্ছিত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মো. সরল আহমেদ রাসেল মন্তব্য করেন, “ফালতু কথাবার্তা এই বয়সে আইসা বলা ঠিক না। রাহাতকে শুধু সদর উপজেলা নয়, বরিশাল জেলার লোকজন, সিনিয়র ও জুনিয়র সবাই চেনে। ওর নামে মিথ্যা কথা বলে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।

ফয়সাল আহমেদ মৃধা মন্তব্য করেন, আপনার বক্তব্য সঠিক নয়, আপনি জমি কিনছেন পাঁচটি দাগে। এক দাগে কি সকল জমি দখল করা যায়, এটা কি আইনের মধ্যে পড়ে?

এছাড়া শরীফ শরীফ মন্তব্য করেন, মুরব্বি, ভূমি আইনের নিয়ম অনুযায়ী আপনার এ দাগের ভাগ বণ্টনের কোনো ডকুমেন্ট আছে? অন্যথায় কারো ইশারায় ছোট ভাই রাহাত তালুকদারের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে আপনি বাংলাদেশ ছাত্রদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। আইন সবার জন্য সমান, তাই আইন অনুযায়ী আপনারও বিচার আদালত করবে।

স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধ আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার না চালিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মহল আরও জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কোনো পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সকল পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost