
বরিশাল নগরীতে এক কিশোরকে কৌশলে গাঁজা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে না পারায় ওই কিশোরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এক কিশোরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোঃ রেদোয়ান রহমান (রুমান) (১৩) বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা। গত ২৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে নগরীর কে.বি হেমায়েত উদ্দিন রোড এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা মোসাঃ রেমিজা বেগম (৪৩) কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার নম্বর ২২৯৫, তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৬।
জিডির তদন্তভার গ্রহণ করেন থানার এসআই মিহির চন্দ্র দাস। তদন্তের একপর্যায়ে ৩১ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে নগরীর সাগরদী এলাকা থেকে একটি কিশোর গ্যাং ও হানী ট্র্যাপ চক্রের হেফাজত থেকে রুমানকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রের সদস্যরা কৌশলে রুমানের হাতে গাঁজা দিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন। পরে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। সম্মানহানির ভয়ে রুমান বিভিন্ন সময়ে বাড়ি থেকে দুইটি স্বর্ণের আংটি, দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল এবং নগদ ৭ হাজার টাকা এনে তাদের দেন।
পরবর্তীতে চক্রটি আরও টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ ও স্বর্ণালংকার দিতে না পারায় গত ২৯ অক্টোবর রাতে তাকে কে.বি হেমায়েত উদ্দিন রোড এলাকা থেকে আটক করে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মেহেদী হাসান (২৬), প্রিয়াংকা (২৩), সাকিবুল হাসান প্যাদা (১৮), হৃদয় মাঝি (১৭), তাহের (১৮) ও তানজিল হাওলাদার (১৭)।
অভিযানে পুলিশ স্বর্ণালংকার বিক্রির ২৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, দুটি স্বর্ণের টানা ও একটি স্বর্ণের আংটি উদ্ধার করেছে। বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।