বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃত শিশুর এক স্বজনসহ দুইজনকে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পরে হাসপাতাল প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার এলাকার বাসিন্দা উজ্জল দে’র সাত দিনের কন্যা সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। এ সময় সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে জয়দেব নামে মৃত শিশুর এক স্বজনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে মামুন নামে আরও এক যুবক মারধরের শিকার হন। পরে তাদের হাসপাতালের নিচতলার জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তালুকদার বলেন, “আইটেম পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার সময় মৃত শিশুর বাবা আমাদের আটকে রাখতে বলেন। তিনি অভিযোগ করেন ভুল চিকিৎসার কারণে তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। একপর্যায়ে কয়েকজন স্বজন নারী শিক্ষার্থীদের অ্যাপ্রোন, ব্যাগ ও ওড়না ধরে টান দেন এবং দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গেও অসদাচরণ করেন।”
আরেক শিক্ষার্থী মুনয়াত মুন বলেন, “হট্টগোলের বিষয়টি শুনে আমরা বের হলে এক ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের হাত, ওড়না ও ব্যাগ ধরে টান দেন। পরে আমরা আত্মরক্ষার্থে একটি কক্ষে আশ্রয় নিই। দুই সহপাঠী তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের মোবাইলও ভাঙচুর করা হয়।”
অন্যদিকে মৃত শিশুর বাবা উজ্জল দে জানান, সন্ধ্যার পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তারা চিকিৎসকদের ডাকেন। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এসে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীর ভাই আবেগাপ্লুত হয়ে চিকিৎসকদের ওয়ার্ড থেকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। এ কারণেই তাকে এবং আরেকজনকে মারধর করা হয়েছে।”
মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস বলেন, “আমার ভাই হয়তো মুখে কিছু বলেছে, কিন্তু কারও গায়ে হাত দেয়নি। তারপরও তাকে মারতে মারতে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমরা ক্ষমা চাইছি।”
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক, মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসন ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কোতোয়ালি মডেল থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা বলেন, “শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. কে. এম. মশিউল মুনীর বলেন, “উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করুক এবং রোগীরাও সঠিক চিকিৎসাসেবা পাক। সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করতে হবে।”