বুধবার, ০৩ Jun ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় ছাত্রদল, যুবদল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের কতিপয় নেতা-কর্মীর বাধা দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪০-৫০ জন অতি উৎসাহী নেতা-কর্মী জানাজাস্থল ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে জানাজায় অংশ নেওয়া জনস্রোতের কারণে তাঁরা চুপসে যান। পরে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থল থেকে বাধাদানকারী নেতা-কর্মীদের সরে যেতে বাধ্য করেন।
আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজায় এমন বিশৃঙ্খলায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিএনপির হাইকমান্ড অতি উৎসাহীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীতে মারা যান তোফায়েল আহমেদ। সিদ্ধান্ত হয়, ভোলায় দাফন হবে তোফায়েলের। ওই রাতেই জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেলের নেতৃত্বে ছাত্রদল মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ করে। এর নেপথ্যে ছিলেন ভোলার স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা।
গতকাল মঙ্গলবার বাদ জোহর ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাত্রদল, যুবদল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলের ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী ওই মাঠে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাঁরা জানাজার প্যান্ডেল করতে বাধা দেন এবং লোক দিয়ে খুলে ফেলেন। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা স্লোগানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে প্রতিহতের ঘোষণা দেন। এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আ. লতিফ টিটু, শ্রমিক দলের উপজেলা সদস্যসচিব আবদুল কাদের বিপ্লব ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রিয়াদ হোসেন।
একপর্যায়ে ভোলা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনর রশীদ ট্রুমেন মাঠে এসে তোফায়েলের জানাজা হতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেন। পরে গণমাধ্যমের সামনে বলতে বাধ্য হন যে—জানাজা হতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কোনো বাধা নেই। তবে কোনো বিশৃঙ্খলা বা স্লোগান হলে তা প্রতিহত করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদ জোহর জানাজার আগেই জনস্রোতের মুখে চুপ হয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম ঘটনাস্থলে এসে নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানতে চাইলে ভোলা সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আ. লতিফ টিটু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল প্রতিহত করার, তবে পরে আমরা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেছি। তোফায়েল আহমেদের জানাজা প্রতিহতে সোমবার রাতে তো জেলা বিএনপির নির্দেশে মোটরসাইকেল মিছিলও হয়েছিল।’
এ প্রসঙ্গে ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। জানাজা প্রতিহতের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমাদের দলের চেয়ারম্যানও সহিষ্ণু হওয়ার কথা বলেছেন। তাই জেলা বিএনপির বাধা দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।’
এ বিষয়ে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, ‘তোফায়েল ভাইয়ের জানাজার প্যান্ডেল একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভেঙে ফেলেছিল। পরে পুলিশ সুপার এসে প্যান্ডেল করতে বললে পুনরায় করা হয়। আগের রাতে তারা জানাজা প্রতিহত করতে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়াও দেয়। মানুষ বলে, এরা বিএনপি, আমরা মনে করি, যারা জানাজায় বাধা দিয়েছে, তারা সন্ত্রাসী।’
জানাজায় অংশ নেওয়া সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ভোলা জেলা সভাপতি মুবাশ্বির উল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে যে অনাকাংঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা ভোলাবাসী নয়, বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড। তারা আসলে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েলের মর্যাদা বোঝেনি। এসব করায় অবশ্যই বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তবে জানাজায় বিএনপি নেতারা অংশ নিয়ে বক্তৃতাও দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, তাঁরা ভোলার বিষয়ে অবগত আছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিএনপি চেয়ারম্যান সমর্থন করেন না। ভোলায় যেটা করেছে, তা দলের সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছে, তারা সবাই বিএনপির নয়; কিন্তু তাদের মধ্যে যারা বিএনপির সঙ্গে জড়িত, তাদের তিরস্কার করা হয়েছে। আমি নিজে জেলা বিএনপিকে বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখতে বলেছি।’