বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পঁচা খাবার সরবরাহের মামলায় সমতা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই অপারেশন কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এলিয়াম হোসেন এই আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাতে শহরের চাঁনমারি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— গফরগাঁও উপজেলার দোগাছিয়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে আহসানুল হাবিব (৫২) এবং বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাবর্তী শিবপুর এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে নুরুজ্জামান খান (৪৪)।
জানা যায়, মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রুটি, কলা ও ডিম টিফিন হিসেবে দিয়ে আসছে সরকার। সমতা ট্রেডার্সের মাধ্যমে এই খাবার বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে দেওয়া হতো। গত ৮ এপ্রিল দুপুরে সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টিফিন খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবার রিপন ঘটনাস্থলে গিয়ে সরবরাহকৃত রুটি, কলা ও ডিম আলামত হিসেবে জব্দ করেন। ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা উঠে আসে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর ফিডিং কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এই ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল সদর উপজেলার ১৬৫নং পোকরার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন চৌধুরী বাদী হয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই আহসানুল হাবিব ও নুরুজ্জামান খানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীদের মাঝে পঁচা খাবার সরবরাহের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। এদিকে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে নষ্ট খাবার সরবরাহের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।