শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান নেয়ে গেল ‘জিনের বাদশা’

প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান নেয়ে গেল ‘জিনের বাদশা’

নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, প্রলোভনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাওয়া, কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ এবং সাইবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুরে আলম নামে সৌদি প্রবাসী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নিকট আত্মীয় হাসান ভূঁইয়া।

লিখিত বক্তব্যে নুরে আলম অভিযোগ করেন, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। একই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের দালাল বাজার এলাকার নকিব কসাই ও তার সহযোগীরা প্রতারণা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ এবং অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

নুরে আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নকিব কসাই নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন। পরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং গত তিন বছরের উপার্জিত প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরে আলম দাবি করেন, তার স্ত্রী সাহিদা (৩৮) ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা সন্তানকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বর্তমানে নকিব কসাই তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাদের মধ্যে কোনো আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধের শামিল। এতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নুরে আলম আরও বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ফেরত চাইলে নকিব কসাই, সিরাজ ওরফে ‘জিনের বাদশা’ এবং তাদের সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি মিথ্যা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নকিব কসাইয়ের বিরুদ্ধে ভোলা জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ, চুরি, মারামারি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

একজন প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost