রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বাবার লাশ দাফনে সাত সন্তানের আপত্তি পাথরঘাটা থানার বিতর্কিত ওসি ক্লোজ, তদন্ত কমিটি গঠন অশালীন মন্তব্য ও দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির দ্রুত পদক্ষেপ পাতারহাট বন্দরের খাল পুনরুদ্ধারে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি বরিশালে আওয়ামী লীগের ১৯ জন নেতাকর্মী গ্রে’ফ’তা’র দফায় দফায় আ.লীগের মিছিল মঠবাড়িয়ায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে দুই সহোদর শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু উত্তর আমানতগঞ্জ সিকদার পাড়া জামে মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন আলেমকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা:সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে চলছে আলোচনা ‘ভারতে প্রবেশের পর থেকে’ নিখোঁজ ডিপজল ‘আওয়ামী লীগ’ ইস্যুতে সারা দেশে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
বাবার লাশ দাফনে সাত সন্তানের আপত্তি

বাবার লাশ দাফনে সাত সন্তানের আপত্তি

ভোলার চরফ্যাশনে পারিবারিক সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে মৃত বাবার লাশ দাফনে চরম উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বাধার মুখে দুইবার কবর খোঁড়া হলেও দীর্ঘ সময় লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে সংক্ষিপ্ত জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিহত জলিল পণ্ডিতের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিল পণ্ডিত জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাত ছেলে—মেয়ে রয়েছেন। সম্প্রতি তার মৃত্যু হলে স্বজনরা পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় কয়েকজন সন্তান দাফনে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে দিয়েছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরেই কয়েকজন সন্তান বাবার লাশ দাফনে বাধা দেন। প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হলেও সেখানে লাশ দাফন করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক—বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে। লাশ দাফন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় বাগ্‌বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমনকি লাশ বাড়ির উঠানে রেখে ভাই—বোনদের মধ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উভয় পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। পরে বাড়ির উঠানে নামমাত্র জানাজা শেষে জলিল পণ্ডিতের লাশ দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহমেদ বলেন, এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost