বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি আয়রন ব্রিজের ঢালাই কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে দুশমী—করিমবাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজে এ ঘটনা ঘটেছে। এলজিইডির অর্থায়নে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের এই ব্রিজটি নির্মাণের কথা ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মানুযায়ী রড ব্যবহারের পরিবর্তে সেখানে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও তা ৩ ইঞ্চিতে নামিয়ে আনা হয়। সিমেন্টের মিশ্রণেও চরম কার্পণ্য করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রত্নপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পেলেও নিজের ইচ্ছামতো কাজ করেছেন। ব্রিজ নির্মাণের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তারা আরও জানান, ঢালাইয়ের সময় উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ঠিকাদারকে বাঁশ ব্যবহারে বাধা দিলে তিনি সামান্য কিছু রড ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ব্রিজের ঢালাই কাজে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ব্রিজের বাইরের অংশে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর তত্ত্বাবধানে হয়েছে।
রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ এবং ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অবগত নন।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ঢালাইয়ের সময় তাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু তাদের না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে ঢালাই শেষ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক বলেন, বাঁশ দিয়ে ব্রিজ ঢালাইয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply