বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজারের বেশি সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজে করে প্রায় ৬ হাজার সৈন্য শিগগিরই এই অঞ্চলে প্রবেশ করবে। বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং এর সাথে থাকা মেরিন কোর টাস্ক ফোর্স, ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও প্রায় ৪ হাজার ২০০ সৈন্য চলতি মাসের শেষের দিকে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আগামী ২২ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা আনুমানিক ৫০ হাজার সৈন্যের সঙ্গে এই অতিরিক্ত সৈন্যরা যোগ দেবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এখনো স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, পরিস্থিতি এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কাছাকাছি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা প্রায় শেষ। হ্যাঁ, আমি এটাকে শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি বলেই মনে করি।’
তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়িয়ে ইরানে আবারো হামলা অব্যাহত রাখতে পারে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখনই সবকিছু গুটিয়ে নিই, তাহলে তাদের (ইরান) দেশ পুনর্গঠন করতে ২০ বছর সময় লাগবে, আর আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি।’
এরআগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এই আলোচনার জন্য পাকিস্তানকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি।
গত শনিবার ও রোববার যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
এদিকে আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ইসলামাবাদ পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং বৈঠকটি সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠিত হবে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি যে তারা দ্বিতীয় দফা আলোচনায় আগ্রহী’।
অন্যদিকে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, তবে উভয়পক্ষ শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত দিনগুলোকেই বিবেচনা করছে।’
এরআগে গতকাল সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রিসভাকে দেওয়া এক ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে ‘পূর্ণ প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রয়েছে।
শেহবাজ শরীফ বলেন, ‘আজও যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে। আমি যখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তখনও যেসব বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য পূর্ণ প্রচেষ্টা চলছে।’
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স
Leave a Reply