বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় নদীপথে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কেনা নৌ অ্যাম্বুলেন্স ‘স্বপ্নযাত্রা’ চার বছরেও একদিনের জন্যও ব্যবহার হয়নি। বর্তমানে এটি আলেকজান্ডার বাজারসংলগ্ন সেন্টার খালের পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দেখতে সচল মনে হলেও এতে নেই ইঞ্জিন, চুরি হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কেনা হয়। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই চালক নিয়োগ না হওয়ায় এটি কখনোই চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায়।
চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জু জানান, চালক সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে শুরু থেকেই অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা যায়নি। ফলে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নৌ অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে কী ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়, তার একটি উদাহরণ পাওয়া গেছে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল। চর আবদুল্যাহ গ্রামের শিশু মো. মামুন হঠাৎ তীব্র পেটব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু চার ঘণ্টা চেষ্টা করেও কোনো নৌযান পাওয়া যায়নি। পরে একটি ছোট নৌকায় করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিশুটির অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। অনেক কষ্টে পরে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়।”
মামুনের বাবা জাকির হোসেন বলেন, “নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কোনোদিন মানুষের কাজে লাগেনি। একদিনের জন্যও কোনো রোগী বহন করতে দেখিনি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রামগতির চর আবদুল্যাহ, চরগজারিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি চরে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি নৌপথনির্ভর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে ট্রলার ভাড়া করতে খরচ হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে শুরু থেকেই ব্যর্থ হয়েছে এই উদ্যোগ। এমনকি একসময় নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। পরে সমালোচনার মুখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটি উদ্ধার করে খালের পাশে ফেলে রাখেন।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, নৌ অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। কেন এটি এতদিন অকার্যকর রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে চরাঞ্চলের মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা একটি জরুরি সেবামূলক প্রকল্প শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, বরং দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জীবনঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এমন ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
Leave a Reply