রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বরিশাল নবগ্রাম রোডে যুবককে কুপিয়ে জখম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে সাংবাদিকের জীবনাবসান বরিশাল বিভাগে ৫ দিনে ৩ খুন, ১৫ অপমৃত্যু কাউখালী উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক নুরুজ্জামান তালুকদার আর নেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়ার নেতৃত্বেই স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে -গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর মেহেন্দিগঞ্জে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে জাজিরায় ঘুমন্ত স্বামীকে ছুরিকাঘাত, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩ পটুয়াখালীতে কিশোরকে বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আটক ৩ ঝালকা‌ঠির নলছিটিতে শিক্ষককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, টাকা—মোবাইল লুটের দাবি
ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে সাংবাদিকের জীবনাবসান

ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে সাংবাদিকের জীবনাবসান

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার দৈনিক যায়যায়দিন—এর প্রতিনিধি মো. রাকিব হোসাইন ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে বিষপান করেন। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় ও সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রোববার (৩১ মে) ভোর ৬টার দিকে তিনি বিষাক্ত ট্যাবলেট (গ্যাস ট্যাবলেট) সেবন করেন।

মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জীবনের সংগ্রাম, পারিবারিক অবহেলা, হতাশা ও মানসিক ক্লান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে, যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত।’ এছাড়া মৃত্যুর পর মায়ের পাশে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করাসহ জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের শেষ বক্তব্য রেখে যান তিনি।

সাংবাদিক রাকিবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে রাকিব বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশালে স্থানান্তর (রেফার) করেন। তবে বরিশাল নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রায় ২০ বছর আগে রাকিবের মা—ও একইভাবে মারা যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা ও মানসিক চাপে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

সাংবাদিক রাকিবের আবেগঘন ফেসবুক পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো—

‘আসসালামু আলাইকুম। একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে, যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত। আপন আপন বলা মানুষগুলো ভালো থাকুক। আফসোস এটাই যে রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো আমাকে চিনতে পারলো না! দুনিয়ার মায়া একদিনের বা অল্প কষ্টে কেউ ছাড়ে না।

আমার মৃত্যুর পর আমাকে যেন আমার মায়ের পাশে দাফন করা হয়। শাজাহান মেলকারের পরিবারের কোনো লোক যেন আমার মুখ না দেখে, যদি কেউ দেখে বা কেউ দেখায় তার প্রতি আমার কেয়ামত পর্যন্ত দাবী থাকবে। দশমিনা ফার্মেসীর আমি অংশীদার, দোকানের খাতায় আমি কতো টাকা দিয়েছি তার হিসাব‌ লেখা আছে। গৌতম যেন কোনো ভাবেই হয়রানি না হয়, গৌতম খুব ভালো ছেলে; এ যুগে এমন ছেলে হয় না। গৌতমের কাছ থেকে আমার ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদাউস (এলো) হিসাব নিবে, গৌতম যা বলবে তাই, এর বাইরে যেন কিছু না হয় এটা আমার দাবী।

ছোটবেলা থেকেই পরিবার ছাড়া বড় হয়েছি, রক্তের মানুষগুলোর কাছ থেকে কখনো কিছু পাইনি শুধু অবহেলা ছাড়া। জীবনে যাদের কাছ থেকে পেয়েছি তাদের সাথে আমার রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই, আমি আজ যাবার সময় তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই আমার। তবে অনেক স্বপ্ন ছিল, বাঁচার ইচ্ছে ছিল, তা আর হলো না। চলার পথে যদি কেউ আমার আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন আমাকে মাফ করে দিবেন। পরিশেষে দুঃখের ঘরে জন্ম নেয়া, কষ্টের সাথে বেড়ে ওঠা ছেলেটার জীবনের সমাপ্তি ঘটলো।’

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, পরিবার ও এলাকাবাসীর অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। মৃত রাকিব অবিবাহিত ছিলেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost