
বরিশালের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে পারেননি অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলম। বুধবার (২২ জুলাই) তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে পদায়ন পেয়ে কলেজে যোগদানের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হলেও শেষ পর্যন্ত যোগদান সম্পন্ন করতে পারেননি। অধ্যাপক মেহবুবা নন—ক্যাডার শিক্ষক হওয়ায় তাঁকে ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়নের বিরোধিতা করে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি কলেজের ক্যাডার শিক্ষকরা আপত্তি জানান।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলমকে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়।
যোগদান প্রসঙ্গে অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলম বলেন, তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বিমুক্ত হয়ে বুধবার সকালে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে যোগদানের জন্য আসেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ তাঁকে জানান, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এ পদায়ন নিয়ে চাপ রয়েছে। তিনি সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কলেজে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত যোগদান করতে পারেননি।
অধ্যাপক মেহবুবা আলম বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আমার পদায়নের সুপারিশ করেছেন। অথচ মন্ত্রণালয়ের আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা অবস্থান নিয়েছেন। আসলে তাঁরা (ক্যাডার শিক্ষকেরা) লুটেপুটে খাবেন, আমরা আসতে পারব না।”
তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই পদায়নের বিধান আছে। আমরা ২০০০ সালের বিধিতে নয়, ১৯৮১ সালের বিধির শিক্ষক। সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বিমুক্ত হয়ে এসেছি। কিন্তু আমাকে এখানে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যাপক এবং বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের কলেজ ইউনিটের নেতা খান শাহিনুল হক বলেন, অধ্যাপক মেহবুবা আলম একজন আত্মীকৃত নন—ক্যাডার শিক্ষক। তাঁর দাবি, ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজে নন—ক্যাডার শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “অধ্যাপক মেহবুবার চেয়ে সিনিয়র একাধিক ক্যাডার শিক্ষক এ কলেজে কর্মরত রয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছি। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরেও (ডিজি অফিস) এ পদায়নের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “অধ্যাপক মেহবুবা আজ সকাল ৯টার দিকে কলেজে এসেছিলেন। পরে তিনি নিজেই চলে যান। তাঁর সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের সাক্ষাৎ বা মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।”
এ বিষয়ে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়নপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলম বুধবার সকালে কলেজে এসে তাঁর কাছে যোগদানের রিপোর্ট জমা দেন। তবে তাঁর পদায়নকে কেন্দ্র করে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি কলেজের ক্যাডার শিক্ষকরা আপত্তি জানান।
অধ্যক্ষ বলেন, “অধ্যাপক মেহবুবা আলম একজন নন—ক্যাডার শিক্ষক। ঝালকাঠি মহিলা কলেজ সরকারি হওয়ার সময় তিনি নন—ক্যাডার শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হন। ওই সময় ঝালকাঠি মহিলা কলেজসহ মোট ১৮টি বেসরকারি মহিলা কলেজ একযোগে সরকারি হয়। অন্যদিকে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের উপাধ্যক্ষ পদটি ক্যাডার শিডিউলভুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, “এই ১৮টি কলেজের নন—ক্যাডার শিক্ষকদের যাতে ক্যাডারভুক্ত কলেজে পদায়ন করা না যায়, সে বিষয়ে ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকরা আদালতের রায় পেয়েছেন। আজ বরিশালের বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে এসে এ পদায়নের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে পদায়নপ্রাপ্ত অধ্যাপক মেহবুবা আলমের সঙ্গে তাঁদের কোনো মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।”
উল্লেখ্য, অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলমের পদায়নকে কেন্দ্র করে সরকারি কলেজে নন—ক্যাডার শিক্ষকদের পদায়নের বৈধতা এবং আদালতের রায় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি।