
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সুমন দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকা এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি এসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি ম্যানেজ বা সংবাদটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন সহকারী প্রকৌশলী মো. সুমন। তবে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বদলি নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ না থাকলেও মো. সুমন কয়েক বছর ধরে বাবুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে বুধবার (২২ জুলাই) অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. সুমনকে অফিসে পাননি। এ সময় অফিসের দায়িত্বে থাকা স্টাফ হুমায়ুন জানান, স্যার সকালে কিছু সময়ের জন্য অফিসে এসেছিলেন। পরে মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি চলে গেছেন।
তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. সুমন বলেন, তিনি জেলা কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন বলেও দাবি করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ ভিন্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে প্রায়ই কর্মঘণ্টায় অফিসে পাওয়া যায় না। ফলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, ফাইল নিষ্পত্তি, অনুমোদনসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে অফিসে এসে অনেককেই কর্মকর্তা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, প্রকৌশলীকে প্রয়োজনের সময় অফিসে পাওয়া যায় না। কয়েকবার অফিসে এসে ফিরে গেছি। পরে বলা হয়, তিনি অফিসে নেই বা বাইরে গেছেন। এতে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সরকারি অফিসে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রায়ই কর্মস্থলে না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, একটি কাগজে স্বাক্ষরের জন্য কয়েকদিন ধরে অফিসে আসতে হচ্ছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা, কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার বদলির উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান তরফদারের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।