
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। সঠিক তদারকির অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক ও সাধারণ রোগীরা। বাধ্য হয়ে তাদের চড়া মূল্যে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জসরকারি হাসপাতালেই হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও রোগীরা সময়মতো তা পান না। প্রায়শই চালক বা সংশ্লিষ্ট স্টাফদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট বা তেল নেই’—এমন অজুহাত দেখিয়ে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অথচ হাসপাতালেই ওত পেতে থাকা একটি দালাল চক্র বা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সিন্ডিকেট ঠিকই দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়ায় রোগী বহনের ব্যবস্থা করে দেয়।
ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা ওয়ার্ডে পা রাখার পরই একটি চক্র তাদের ভুল বুঝিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ঠেলে দেয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের কাউন্টারে যোগাযোগ করলে নানা টালবাহানা করা হয়। অনেক সময় চাবি না থাকার বা চালক অনুপস্থিত থাকার অজুহাত দেখিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোগীদের আটকে রাখা হয়, যা মুমূর্ষু রোগীর জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সঠিক লগবুক মেইনটেইন না করা এবং মনিটরিংয়ের অভাবই এই দুর্নীতির মূল কারণ। চালকদের অনেকে হাসপাতালের ভেতরেই নিজস্ব বা আত্মীয়স্বজনের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা পরিচালনা করেন, যা স্বার্থের স্পষ্ট সংঘাত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক/সিভিল সার্জন [এখানে কর্মকর্তার নাম বা পদবি বসাতে পারেন] এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।”
সাধারণ রোগীদের দাবি মেহেন্দিগঞ্জের সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার কঠোর নজরদারির আওতায় আনা এবং জিপিএস ট্র্যাকিং বা আধুনিক ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করা জরুরি। তা না হলে সরকারি সেবার নামে এই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।ভুক্তভোগীরা জানান উলানিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অসুস্থ জরুরী রোগী নেওয়া হলে। সরকারি এম্বুলেন্সের ড্রাইভার ৩০০০/৪০০০দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ পূর্বে থেকেই এরকম এম্বুলেন্সের সিন্ডিকেট ব্যবসা চলছে