, , ,
শিরোনাম
গাজীপুরের জঙ্গলে মিলল ১২ ঘোড়ার কাটা মাথা জরাজীর্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁকি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান, আকুতি পাকা ভবনের ৩০ বছর আত্মগোপনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ভুয়া জমিদাতাকে দাতা সদস্য: ইউএনওসহ একাধিকের বিরুদ্ধে মামলা পটুয়াখালীতে ফজরের নামাজে সেজদায় ইমামের মৃত্যু নাজিরপুরে ব্যবসায়ীকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন, সকালে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন পিরোজপুরে পা বেঁধে পানিতে ফেলে দুই ছাগল হত্যার অভিযোগ নিজ বাড়ির সামনে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বৃষ্টি ঋণ দেওয়ার নামে গ্রহকের সঞ্চয়-বিমার টাকা নিয়ে উধাও কথিত এনজিও জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার চেষ্টার অভিযোগ
চোরাচালান সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক ওসি মনির

চোরাচালান সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক ওসি মনির

Reporter
প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬

ক্ষমতার অপব্যবহার, অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মানসিক নির্যাতন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর সিলেটের মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আরও কিছু অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে রয়েছে সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্য।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) কালবেলায় ‘ওসি মনিরের খেয়ালখুশির রাজত্ব’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পুলিশ বিভাগে শুরু হয় তোলপাড়। মুখ খুলতে শুরু করেন পুলিশের অধস্তন সদস্যরাও। তবে অনেক কর্মকর্তা বলছেন, এসব দীর্ঘদিনের হলেও ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কারণে মনিরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক ও মামলা বাণিজ্য: অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শাহপরান থানায় দায়িত্ব পালনকালে ওসি মনির হোসেন সীমান্তপথে আসা বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যের চোরাকারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ওই এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত শাহেদ ও মনির লাইনম্যান হিসেবে টাকা তুলতেন। এ ছাড়া কানাইঘাটের মইনুল, কয়ছর, জকিগঞ্জের সুইস মামুন, জৈন্তাপুরের জাহজাহান ও আলমগীরের মাধ্যমে সপ্তাহ এবং মাস ভিত্তিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওসি মনিরের বিরুদ্ধে।
সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সিলেটের ডাকের সিনিয়র রিপোর্টার কাউসার চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘ওসি মনির হোসেন নিজেই চিনি ও ভারতীয় বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার আশ্রয়—প্রশ্রয়েই এসব পণ্য এলাকায় প্রবেশ করত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম, শাহপরান এলাকায় ২৫০ বস্তা চিনি জব্দ করা হলেও জব্দ তালিকায় ১৫০ বস্তা দেখানো হয় এবং বাকি ১০০ বস্তা আত্মসাৎ করা হয়। পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি জানালে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সিলেট আদালত দুই দফা ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর করা হয়নি।’

তার দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় ও আশকারা পেয়েই ওই কর্মকর্তা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন এবং আদালতের নির্দেশের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কাউসার চৌধুরী আরও বলেন, ‘হঠাৎ জানতে পারি একটি মামলায় আমাকে ৭৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, আমি গত ৪ আগস্ট শিবগঞ্জ পয়েন্টে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ছিলাম। অথচ ঘটনার অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই আমি ওই এলাকায় যাইনি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মতো অনেক নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং এটি মামলা বাণিজ্যের অংশ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি। এমনকি পুলিশ কমিশনারও বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে তাকে নমনীয়ভাবে দেখার পরামর্শ দেন।’

ওসির অমানবিক আচরণে আরও এক কনস্টেবলের মৃত্যু

শুক্রবার প্রকাশিত কালবেলার প্রতিবেদনে কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল মতিন মিয়ার সঙ্গে ওসি মনিরের নিষ্ঠুর আচরণের তথ্য উঠে এসেছে। ছুটি চেয়েও না পাওয়ায় কনস্টেবল মামুনুরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। এ কারণে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখতে পারেনি মামুনুরের নবজাতক দুই সন্তান। কনস্টেবল মতিন মিয়ার পরিণতি আরও করুণ, গুরুতর অসুস্থ হলেও ছুটি পাননি। পরে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় তাকে।

এবার নতুন করে উঠে এসেছে শাহপরান থানার এএসআই তোতা মিয়ার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের বিষয়টি। ২০২৫ সালে অতিরিক্ত মানসিক টর্চারের কারণে তোতা মিয়া স্ট্রোক করেন। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

তার স্ত্রী কালবেলাকে বলেন, ‘ও (তোতা মিয়া) আমাকে বলেছে, ওসি খুব খারাপ। অনেক খারাপ ব্যবহার করে।’ ওই নারী আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে রমজানের ঈদে ছুটি দেয় নাই। বলছে, কোরবানির ঈদে দিবে, কিন্তু দেয় নাই। ৭ জুন কোরবানির ঈদ ছিল। ১৩ জুন সে স্ট্রোক করে। আমার একটা মেয়ে। মেয়েটা দুইটা ঈদে বাবার জন্য কান্না করেছে। আমরা ফোনেও কথা বলতে পারতাম না। যখনই ফোন দিতাম বলত, ব্যস্ত আছে। ওসি স্যারের ডিউটিতে। পরে ফোন দিচ্ছি বলে কেটে দিত, পরে আর কথা হতো না। খুব সকালে ডিউটি যাওয়ার আগে ফোন দিতে পারলে একটু কথা বলা যেত।’

অসুস্থ হওয়ার পর সঠিক চিকিৎসা না করানোর অভিযোগ করে এই নারী বলেন, ‘ডিউটি শেষ করে আবার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ হওয়ার পর আবার তাকে ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে যাই। শুক্রবার হওয়ায় হাসপাতালে সেদিন কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। পরে অন্য একটা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে স্যালাইন লাগিয়ে শুইয়ে রাখে। পরে আমার বোন ও বোনের স্বামী শাহজালালে (শাহজালাল ইউনিভার্সিটি) পড়ত। ওরা গিয়ে দেখে স্যালাইন লাগিয়ে শুইয়ে রাখছে, কোনো চিকিৎসা করানো হয় নাই। তাকে সেখান থেকে মাউন্ড অ্যাডোরাতে নিয়ে যাই। সেখানে পরীক্ষা করে ধরা পড়ে যে—ব্রেইন স্ট্রোক করেছে। তখনো আমার স্বামীর হুঁশ ছিল, সবাইকে চিনত। পরে আমরা সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে আসি। ওই সময়ে ওসি কিংবা থানা পুলিশ আমাকে কোনো সহায়তা করে নাই।’

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost