বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
হিজলায় পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজি: ‘জরুরি সেবা’র নামে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ মঠবাড়িয়ায় ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত  কাউখালীতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি ভান্ডারিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর ১৬ বছর পর কাউখালীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু, কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ‘বৈশাখী চাঁদা’ না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ মৎস্যজীবী দলের নেতার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়ায় রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজের ঢালাই পটুয়াখালীতে সালিসে বিপক্ষে কথা বলায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, চাচাতো ভাই গ্রেপ্তার খালের পাড়ে পড়ে নৌ অ্যাম্বুলেন্স ‘স্বপ্নযাত্রা’, চালু হয়নি একদিনও মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কাজিরহাট ভাসান চড়ে মাদক সেবনে ধ্বংসের পথে যুবসমাজ  মগবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দুর্ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী আহত বিস্ফোরণে উড়ে গেল ভবনের দরজা-জানালা, বাবা-ছেলে গুরুতর আহত মেহেন্দিগঞ্জে নসিমন উল্টে চালকের মৃত্যু: ১৯ বছরেই নিভে গেল মেহেদীর জীবনপ্রদীপ বাকেরগঞ্জে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নববর্ষ উদযাপন বরিশাল কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী কিসলু ইয়াবা নগদ টাকা সহ পুলিশের খাঁচায় আটক হোটেল ব্যবসার আড়ালে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ: বরিশালে অভিযানে মালিকসহ আটক ৬ বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হাম উপসর্গে বরিশালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু আগৈলঝাড়ায় জরাজীর্ণ সেতু, বাঁশ দিয়ে জোড়াতালিতে চলছে পারাপার
৩ মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

৩ মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন।

১৮৫ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। আর সংবিধানের মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয় রায়ে।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে।

রায়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হয়। কারণ, এটি পুনর্বহালকৃত ১১৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ে নির্ধারিত নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় কেন প্রতিষ্ঠা করা হবে না, তা—ও জানতে চান আদালত।

গত বছরের ২৩ জানুয়ারি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে রুল শুনানি শুরু হয়। তবে বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে আপিল বিভাগে নিয়োগ করে সরকার। এরপর এ—সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। পুনর্গঠিত বেঞ্চে গত বছরের ২৩ এপ্রিল রুল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে রায় হয় ২ সেপ্টেম্বর।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। এ ছাড়া অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া এবং ইন্টারভেনর (ব্যাখ্যাদানকারী) হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম শুনানিতে অংশ নেন।

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ—সংশ্লিষ্ট উল্লিখিত বিষয়গুলোর দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করতে রিট আবেদন করেন জেলা জজ ও তৎকালীন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন। হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে ওই আবেদনের পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকার আপিল করে। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য খসড়া আইন করা হয়েছিল। যা পাঠানো হয়েছিল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইয়ে বিষয়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তিনি তাঁর বইয়ে বলেন, ‘২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পর ৩ অক্টোবর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অনুমোদন শেষে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ আইন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করার জন্য। ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের বিষয়টি আইনে পরিণত করার জন্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাও ডাকা হয়। কিন্তু ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে টেলিফোন করে বলেন, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁর সরকারের (বিএনপি) জন্য রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং কথা দেন, তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2019, All rights reserved.
Design by RaytaHost
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com