
বরিশালের বানারীপাড়ায় এক রাজমিস্ত্রিকে মারধর, থানায় বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং তাঁর তিন বছর বয়সী নাবালিকা কন্যাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদসহ চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যকে আসামি করে বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জালিছ মাহমুদ (২৬)।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা এলাকায় বাদীর বসতবাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারে জালিছ মাহমুদ উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁদের তিন বছর বয়সী কন্যা হুমায়রা জান্নাত তাঁর বাড়িতে লালিত-পালিত হচ্ছিল। সাবেক স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় প্রয়োজনীয় দেনমোহর, খোরপোষ ও ইদ্দতকালীন অর্থ পরিশোধের পর তিনি বিচার শেষে খালাস পেয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন ওসির নির্দেশে এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য বাদীর বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁর পরিচয় যাচাই করেন। একপর্যায়ে এসআই জাহিদ তাঁর গলা চেপে ধরেন এবং অন্য পুলিশ সদস্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে জখম করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরে সাবেক স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন—এমন কথা বলে তাঁকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর তিন বছর বয়সী কন্যাকে তাঁর সম্মতি ছাড়া নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বাদীর অভিযোগ, তাঁকে থানার একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। পরে শিশুটির হেফাজত নিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি জিম্মানামা তৈরি করে শিশুটিকে তাঁর সাবেক স্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জালিছ মাহমুদ বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তাঁর দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাপত্রে ঘটনাটিকে ‘পুলিশ কেস’ হিসেবে নথিভুক্ত করেনি। ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮৫, ৩৬৩, ৩৪২, ১৬৬ ও ১০৯ ধারাসহ প্রমাণসাপেক্ষে প্রযোজ্য অন্যান্য ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
বাদী আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া, প্রয়োজনে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত, থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও সরবরাহের নির্দেশ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং নাবালিকা শিশুকে আদালতে হাজির করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হেফাজত নির্ধারণের আবেদন করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য: অভিযোগগুলো মামলার এজাহারভিত্তিক। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।