বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
বরিশালে জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা জহির বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় ১৪০ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী জুলাই যোদ্ধা জহির।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা—কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন ফয়সাল আলম। আন্দোলনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগেই তিনি বর্তমানে মামলার আসামি হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
এদিকে ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই সময় ব্যাপক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ে তিনি পার পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে বরিশালে বদলি হয়ে এসে গণপূর্ত বিভাগেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল গণপূর্ত ভবনের একাধিক সূত্র জানায়, মডেল মসজিদ, দুদক ভবন ও আনসার ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাতিল হওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে পুনরায় কাজ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হলেও প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হতো। এছাড়া স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে ম্যানেজ করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অনীহা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সংবাদকর্মী।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বরিশালে যোগদানের পর তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার নির্দেশে এক কর্মকর্তা সম্প্রতি বরিশাল নগরীর রুপাতলীতে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ফয়সাল আলমের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি প্রকাশ্যে নৌকার ব্যাজ ব্যবহার করতেন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি বরিশাল আইইবির নবগঠিত কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থান পাওয়াও বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাদীপক্ষ বলছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।